বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বন্যার্তদের ঘরের চাবি তুলে দিতে বাঁশখালী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তিনি বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে নতুন নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এসব কর্মসূচি শেষ করে হেলিকপ্টারে বাঁশখালীতে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে জনসমাগম

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সকাল থেকেই বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন সুধী সমাবেশস্থলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে মানুষ সেখানে জড়ো হন।

বেলা ১২টার আগেই সমাবেশস্থলের বিশাল প্যান্ডেল পূর্ণ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

বন্যায় ঘর হারানো স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন ঘরের চাবি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই পুনর্বাসন উদ্যোগকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা।

১০০ পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০টি করে মোট ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘরের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ এবং পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট আয়তনের একটি সংযুক্ত শৌচাগার।

উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগপ্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে ঘরগুলো নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।

এরপর ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে কর্মসূচি

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে যাবেন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা পরিদর্শন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের কথা রয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীতে যাবেন। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা পরিদর্শনের পাশাপাশি সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মধ্যে ঘর নির্মাণের জন্য পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও অনুদান বিতরণ করা হবে।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে সাংগঠনিক বৈঠক

দিনব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একটি অভিজাত হোটেলে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন