সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ২৭ নম্বর মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ তারই অংশ।
ছেলেদের হাফশার্ট-শর্টস, মেয়েদের ফ্রক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে ইউনিফর্মের নতুন নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী মেয়েদের জন্য ফ্রক এবং ছেলেদের জন্য হাফশার্ট ও শর্টস রাখা হয়েছে।
শিশুদের বয়স ও বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিবেশ বিবেচনায় ইউনিফর্ম তৈরিতে আরাম, ব্যবহারিক সুবিধা এবং পোশাকে একরূপতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করা হয়। ওই সভায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
ব্যাগ-জুতাও আসছে সহায়তার আওতায়
শুধু ইউনিফর্ম নয়, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে পোশাক, জুতা ও স্কুলব্যাগের ব্যয় অনেক সময় পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এসব সামগ্রী বিনামূল্যে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঝরে পড়া কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
একই ধরনের ইউনিফর্ম পরার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতার পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
গুরুত্ব পাচ্ছে মিড-ডে মিল
প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনায় ইউনিফর্মের পাশাপাশি স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিল কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চিহ্নিত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজন শিক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। বাস্তবায়নের সময় কী সমস্যা হয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
১৬ আগস্ট কটিয়াদীর মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিদ্যালয়েও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ইউনিফর্মের পাশাপাশি স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলের মতো সহায়তা নিয়মিত করা গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ধরে রাখার হার বাড়বে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ তৈরিতে এসব উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

