নখকে অনেকেই শুধু সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে দেখেন। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের কিছু ইঙ্গিত নখেও প্রকাশ পেতে পারে। নখের রং, আকৃতি, পুরুত্ব বা গঠনে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি পুষ্টির ঘাটতি, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে নখের কোনো একটি পরিবর্তন দেখেই নির্দিষ্ট রোগ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই ধরনের লক্ষণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
১. নখ চামচের মতো হয়ে যাওয়া
নখের মাঝখান ভেতরের দিকে ঢুকে চারপাশ উঁচু হয়ে চামচের মতো আকৃতি তৈরি করলে বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের পরিবর্তনকে ‘কোয়ইলোনাইকিয়া’ বলা হয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
নখের এমন আকৃতি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. আঘাত ছাড়াই নখ উঠে যাওয়া
কোনো আঘাত ছাড়াই নখ যদি ধীরে ধীরে নখের নিচের অংশ থেকে আলাদা হতে শুরু করে, সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। সোরিয়াসিস, ছত্রাকের সংক্রমণ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তাসহ বিভিন্ন কারণে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. নখ হঠাৎ কালচে হয়ে যাওয়া
আঘাতের কারণে নখের নিচে রক্ত জমে কালচে দাগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো আঘাত ছাড়াই নখে নতুন কালচে দাগ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে দাগটি যদি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, দীর্ঘদিন থেকে যায় বা নখের আশপাশের ত্বকেও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৪. নখ হলুদ হয়ে যাওয়া
নখ হলুদ হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ ছত্রাকের সংক্রমণ। তবে সব ক্ষেত্রে কারণ একই নয়। কিছু শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘদিনের নখের পরিবর্তনের সঙ্গেও হলুদ রঙের সম্পর্ক থাকতে পারে।
নখের রং পরিবর্তনের পাশাপাশি যদি নখ মোটা, ভঙ্গুর বা খসখসে হয়ে যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. নখে সাদা দাগ
নখে সাদা দাগ দেখা দিলেই শরীরে নির্দিষ্ট কোনো পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ছোটখাটো আঘাত, নখের ক্ষতি, ছত্রাকের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে নখে সাদা দাগ দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু নখের সাদা দাগ দেখে নিজে নিজে কোনো রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৬. নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া
হঠাৎ নখ পাতলা হয়ে যাওয়া বা সামান্য চাপেই বারবার ভেঙে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, নখের ওপর বারবার প্রসাধনী প্রয়োগ, বয়সজনিত পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যাও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
সমস্যাটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে এর কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
৭. নখের চারপাশে ফোলা, ব্যথা বা রক্তপাত
নখের চারপাশে বারবার ফোলাভাব, ব্যথা কিংবা রক্তপাত হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। নখের আশপাশের সংক্রমণ, আঘাত কিংবা অন্যান্য সমস্যার কারণে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নখের চারপাশে ফোলাভাব বা ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
নখের রং ও আকৃতির পাশাপাশি এর বৃদ্ধির ধরনেও নজর রাখা দরকার। যেমন—
- নখের বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে ধীর বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
- নখের উপরিভাগের গঠনে পরিবর্তন
- বারবার নখ ভেঙে যাওয়া
- নখ অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে যাওয়া
- নখের আকৃতি বদলে যাওয়া
- নখের চারপাশে দীর্ঘস্থায়ী ফোলাভাব বা ব্যথা
- কারণ ছাড়াই নখের পাশে রক্তপাত
এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে গুরুতর কোনো রোগ হয়েছে, তা নয়। তবে পরিবর্তন নতুন হলে, ধীরে ধীরে বাড়লে কিংবা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নখের পরিবর্তন দেখলে কী করবেন?
শরীরের কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে সবসময় ব্যথা বা স্পষ্ট উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। কখনো ত্বক, চুল বা নখের পরিবর্তনের মাধ্যমেও কিছু সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
তাই নিয়মিত নখের রং, গঠন ও বৃদ্ধির দিকে নজর রাখা ভালো। তবে নখের কোনো পরিবর্তন দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

