সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুদ্ধে নিহতদের রক্ত উপেক্ষিত হতে দেওয়া হবে না: আরাগচি

নিউজ ডেস্ক

সব ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিরোধের প্রতি ইরানের অঙ্গীকার অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে যুদ্ধে অন্যায়ভাবে নিহতদের রক্ত কখনো বিস্মৃত বা উপেক্ষিত হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) তেহরানে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে মহররম ও আশুরা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

আরাগচি বলেন, আশুরার ঘটনাবলি-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক নথিপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে আধিপত্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তির মোকাবিলায় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইরানের দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইরানের কূটনীতি কেবল সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নথিতে এমন এক মানবকেন্দ্রিক কূটনীতির প্রতিফলন পাওয়া যায়, যেখানে ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা ও আশুরার সংস্কৃতি লালন জাতীয় অঙ্গীকারের অংশ হয়ে উঠেছে।

পেহলভি শাসনামলে ধর্মবিরোধী বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হলেও ইরানিদের এই অঙ্গীকার অব্যাহত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বছরের মহররম ও আশুরা ইরানে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে মন্তব্য করে আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অন্যায় ও কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের’ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মুক্তি রক্ষায় ইরান বহু মানুষকে হারিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেও ইরানের জনগণ স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—কোনো জাতি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় ও সংগ্রামের পথ ছেড়ে দিলে শুধু ভূখণ্ড হারানোর ঝুঁকিই তৈরি হয় না; বরং সামষ্টিক পরিচয়, জাতীয় সংকল্প এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সক্ষমতাও হারিয়ে যেতে পারে।

এই আদর্শিক ও কৌশলগত উপলব্ধি থেকেই সব ধরনের চাপের মধ্যেও ইরান প্রতিরোধের প্রতি অঙ্গীকারে অটল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান তিনি।

আরাগচি বলেন, অন্যায় ও অমানবিকতার ঝড়ের মধ্যেও ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্ত কখনো ভুলে যাওয়া বা উপেক্ষা করা হবে না। যারা এর পেছনে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেরও ক্ষমা করা হবে না। ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে নিহতদের রক্ত ভবিষ্যতেও প্রেরণা জোগাবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন