রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কেয়ামতের দিন যে ৩ ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না

নিউজ ডেস্ক

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। একদিন প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে নিজ নিজ কর্মের হিসাব দিতে হবে। সেই মহাদিবসে মানুষের জন্য অপেক্ষা করবে কঠিন বিচার ও পরিণতি।

হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর পর একজন মুমিন বা পাপীর সামনে তার পরকালীন আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। সে জান্নাতের অধিবাসী হলে জান্নাতের স্থান এবং জাহান্নামের অধিবাসী হলে জাহান্নামের স্থান তাকে দেখানো হয়। এরপর তাকে বলা হয়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করবেন। (তিরমিজি: ১০৭২)

পবিত্র কোরআনে কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতা বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, সেদিন মানুষ তার ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের থেকেও পালিয়ে বেড়াবে। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের পরিণতি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকবে যে অন্যের দিকে তাকানোর সুযোগ থাকবে না। (সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭)

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কেয়ামতের দিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সেদিন নারী-পুরুষ সবাই যদি উলঙ্গ অবস্থায় উঠবে, তাহলে বিষয়টি কীভাবে হবে? জবাবে রাসুল (সা.) জানান, কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে মানুষ একে অন্যের দিকে তাকানোর কথাই ভাববে না। (মুসলিম: ৬৯৩৪)

এমন ভয়াবহ দিনে কিছু মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট হবেন। হজরত আবুজর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (মুসলিম: ১০৬)

সেই তিন ব্যক্তি হলেন—

১. দান করে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করার পর তা নিয়ে অন্যকে অপমান করা বা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া ইসলামি শিক্ষায় কঠোরভাবে নিন্দিত। দানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, মানুষের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ নয়।

২. মিথ্যা কসম করে ব্যবসা করা ব্যক্তি

পণ্য বিক্রি বা ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার জন্য মিথ্যা শপথ করা গুরুতর গুনাহ। সাময়িকভাবে এতে লাভ হলেও এর মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদে বরকত নষ্ট হয় এবং আখিরাতে কঠিন পরিণতির সতর্কতা রয়েছে।

৩. টাখনুর নিচে পোশাক ঝুলিয়ে পরা ব্যক্তি

হাদিসে অহংকার ও গর্বের সঙ্গে পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। তাই পোশাক পরার ক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশনা ও নিয়তের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই হাদিসের শিক্ষা হলো—দান করার পর খোঁটা দেওয়া, ব্যবসায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া এবং অহংকারপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকা। মানুষের আমল ও চরিত্রের এসব বিষয় কেবল দুনিয়ার জীবনে নয়, পরকালেও তার পরিণতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন