পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয়তা এখন শুধু দেশটির দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দেশটির নাটক। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বড় মাইলফলক ছুঁয়েছে জনপ্রিয় রোমান্টিক নাটক ‘ইশক মুরশিদ’।
ইউটিউবে নাটকটির ভিউ ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই নাটকটি পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ড্রামা হিসেবে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
‘ইশক মুরশিদ’ পরিচালনা করেছেন ফারুক রিন্দ। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিলাল আব্বাস খান ও দুর-এ-ফিশান সেলিম। পাকিস্তানের হাম টিভিতে প্রচারিত নাটকটি শেষ হওয়ার পরও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের আগ্রহ কমেনি।
নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে শাহমীর সিকান্দার ও শিবরা সুলেমানকে ঘিরে। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শাহমীর এমন এক তরুণীর প্রেমে পড়ে, যিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নিজের পরিচয় গোপন করে সেই তরুণীর মন জয় করতে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে শাহমীর। এরপরই গল্পে একের পর এক নাটকীয় মোড় তৈরি হয়।
বিলাল আব্বাস খান শাহমীর সিকান্দার ও তার ছদ্মবেশী চরিত্র ফজল বখশের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে শিবরা সুলেমান চরিত্রে দুর-এ-ফিশানের অভিনয়ও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
রোমান্স, হাস্যরস ও পারিবারিক আবহের পাশাপাশি গল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন নাটকটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে দুই প্রধান চরিত্রের রসায়ন ও মজার সংলাপ দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে।
প্রচার শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও নাটকটির ভিউ বাড়তে থাকায় এর জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক অর্জনকে পাকিস্তানি নাটকের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল জনপ্রিয়তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘ইশক মুরশিদ’-এর এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, ভালো গল্প, শক্তিশালী চরিত্র ও দক্ষ অভিনয় থাকলে একটি নাটক প্রচার শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে।

