প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। টানা ১৭ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ সোমবার (১০ আগস্ট) সহিংস রূপ নেয়। রাজধানী রাঁচিতে রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তবে জলকামানের সামনে দাঁড়িয়েও আন্দোলনকারীদের একাংশকে নাচতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের দিল্লি ও পাটনায় হওয়া ছাত্র আন্দোলনের দৃশ্যের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
কেন আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) আয়োজিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনায় চাকরিপ্রত্যাশীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিতে সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং অনিয়মের তদন্তসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তারা।
বিভিন্ন জেলা থেকে রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের ঢল
সোমবার সকালে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে রাজ্য বিধানসভার দিকে অগ্রসর হন।
আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতো। তবে সরকার তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রাঁচিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের বিধানসভা এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে শহরে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের রাঁচিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পরিস্থিতির কারণে রাঁচির বেশ কয়েকটি স্কুলও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে আলাদা করে বিক্ষোভ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতাকর্মীরা।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা, কাটেনি অচলাবস্থা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও এখনো সমঝোতা হয়নি।
সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেএসএসসি ও জেপিএসসির অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন করছেন বলেও জানান তিনি।
পদত্যাগ জেপিএসসির তিন সদস্যের
এরই মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত রোববার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সিআইডির পক্ষ থেকে সমন জারির পর তাদের পদত্যাগের খবর আসে।
এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদত্যাগ করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

