সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

নিউজ ডেস্ক

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে ইউক্রেনে প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার দাবি করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি ইউক্রেনে প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের কথা জানিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ হাজার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ায় তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তির লাইসেন্স এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণ পাওয়ার সুযোগও দেশটি কাজে লাগাবে বলে মনে করেন তিনি।

রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা চলতি মাসে রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে প্রায় ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এসব সেনার মধ্যে হাজার হাজার নিহত বা আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়ন অনুযায়ী, পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি এবং একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা চান জেলেনস্কি

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা পেতে আগ্রহী, যেখানে তাদের ঘাটতি রয়েছে। তিনি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, ড্রোন চুক্তিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত কিয়েভ। সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের কূটনীতিকেরা সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হওয়ায় প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন রয়েছে।

তুরস্কের অস্ত্র প্যাকেজেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ নিতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে ইউক্রেনকে সরবরাহ করতে ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

এ ছাড়া এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন