২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদকে রাষ্ট্রীয় মাসিক সম্মানীর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচিত এসব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নির্ধারিত হারে প্রতি মাসে সম্মানী পাবেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো ও পৌরসভার শ্রেণিভেদে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর জন্য মসজিদ নির্বাচনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে মসজিদ নির্বাচন হবে
দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ রাষ্ট্রীয় সম্মানীর জন্য নির্বাচন করা হবে।
পৌরসভাগুলোর ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে সংখ্যা আলাদা রাখা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি করে মসজিদ নির্বাচিত হবে।
অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
কে কত টাকা পাবেন?
নির্বাচিত মসজিদের ইমাম প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
সরকারি এ সম্মানীর অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।
শুধু মসজিদ নয়, অন্য উপাসনালয়ও থাকছে
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মাসিক সম্মানীর আওতায় আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা।
এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে নির্বাচন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরাদ্দ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা
মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় মাসিক সম্মানীর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় ব্যক্তিকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হয়।

