রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গঠিত হলো জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

নিউজ ডেস্ক

দেশে ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে ২৭ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কমিটিতে সংস্কৃতি, শিল্প, বাণিজ্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাও কমিটিতে রয়েছেন।

অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিদেরও সদস্য করা হয়েছে। উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেলকে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। আরও একজন সেক্টর স্পেশালিস্ট এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির দায়িত্ব

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সৃজনশীল অর্থনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। একই সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়াও কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।

বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে কমিটি এবং প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সৃজনশীল অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগত সহায়তা, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরিতে কমিটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেও সৃজনশীল অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সৃজনশীল অর্থনীতিতে মোট ৮০০ কোটি টাকার অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারের লক্ষ্য দেশের সৃজনশীল শিল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে জিডিপিতে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত এবং প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমস ও ডিজিটাল কনটেন্টসহ বিভিন্ন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও স্থানীয় পণ্যকে আধুনিক নকশা ও বিপণনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বাজারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্রিয়েটিভ হাব, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজে ইনোভেশন হাব চালু, স্থানীয় সৃজনশীল পণ্য চিহ্নিতকরণ এবং ডিজাইনারদের নিয়ে জাতীয় পুল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় তাঁত, মৃৎশিল্প, বয়ন, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না ও টেরাকোটাসহ বিভিন্ন পণ্যকে সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সৃজনশীল পণ্য ও কনটেন্ট তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিসম্পন্ন স্টুডিও স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিমুখী বাণিজ্যিক প্রকল্পে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন