রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরছে তিন পাটকল, দুই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি

নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই কোম্পানির সঙ্গে ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে দুটি পাটকল ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এবং অপরটি পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের মধ্যে চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

ইজারা দেওয়া তিনটি পাটকল হলো—সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড, খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড এবং প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী, জাতীয় জুট মিলস ও স্টার জুট মিলস ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের দায়িত্ব পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনটি মিল পুনরায় চালু হলে অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এ তিন কারখানায় মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিলগুলো থেকে সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় হতে পারে।

খুলনার স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ মিল চালু হলে আরও ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে অন্তত ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে এবং সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইজারাগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মিলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের পাটশিল্পকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন