দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা কাটতে পারে আজ বুধবার সন্ধ্যার পর। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতিতে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অপর একটি টার্মিনাল দুর্ঘটনার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগের সরকারের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে দেশে আগে থেকেই জ্বালানি সংকট ছিল। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাবে সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এতে বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দেয়।
পরিস্থিতির মধ্যে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এলএনজি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হলে আজ সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের চাপ কিছুটা কমে আসবে।

