রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রস্রাব বা বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

নিউজ ডেস্ক

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই নামাজ আদায়ের সময় শরীর ও মনকে যথাসম্ভব স্থির রাখা এবং একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করা জরুরি। কিন্তু অনেক সময় প্রস্রাব-পায়খানা কিংবা বায়ুর চাপ থাকলেও কেউ কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে যান। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন অবস্থায় নামাজ আদায় করা কতটা গ্রহণযোগ্য—এ নিয়ে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫) অর্থাৎ নামাজ এমনভাবে আদায় করা উচিত, যাতে ইবাদতের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ ও একাগ্রতা থাকে।

চাপ থাকলে নামাজে দাঁড়াতে নিষেধ

হাদিসে প্রস্রাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কারও নামাজের সময় প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দিলে সে যেন আগে প্রয়োজন সেরে নেয়। (তিরমিজি: ১৪২)

আরেক হাদিসে হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রস্রাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিজি: ৩৫৭)

শুধু প্রস্রাব-পায়খানাই নয়, বায়ুর চাপের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য। হজরত নাফে (রহ.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এমন অবস্থায় নামাজ না পড়ার কথা বলেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৮০২২)

কেন এমন অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে?

ইসলামি আইন ও ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর তীব্র চাপ নিয়ে নামাজ পড়া সাধারণত মাকরুহ তাহরিমি। কারণ, এ ধরনের শারীরিক চাপ নামাজের খুশু-খুজু বা একাগ্রতা নষ্ট করতে পারে।

এ অবস্থায় মানুষের মন বারবার নিজের শারীরিক প্রয়োজনের দিকে চলে যায়। ফলে নামাজে যথাযথ মনোযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই নামাজের আগে এমন প্রয়োজন দেখা দিলে আগে তা সেরে নেওয়া, প্রয়োজন হলে ইস্তিঞ্জা ও অজু সম্পন্ন করে এরপর নামাজ আদায় করাই উত্তম।

নামাজের মধ্যে চাপ অনুভূত হলে?

নামাজ শুরু করার পর প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর চাপ তৈরি হলে এবং পর্যাপ্ত সময় অবশিষ্ট থাকলে নামাজ ছেড়ে প্রয়োজন সেরে নেওয়া উচিত। এরপর নতুন করে অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে।

তবে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এলে এবং প্রয়োজন সারতে গেলে নামাজ কাজা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিষয়টি ভিন্ন। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াক্ত রক্ষা করাকে গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায় করার কথা ফিকাহগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

নামাজ কি আদায় হয়ে যাবে?

পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও কেউ প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ আদায় করলে তা মাকরুহ হলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে—এমন মত ফিকাহবিদদের রয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অবস্থায় নামাজ পড়ার অভ্যাস করা উচিত নয়।

সবচেয়ে উত্তম হলো, নামাজের আগে শরীরকে প্রয়োজনমুক্ত করে অজু-ইস্তিঞ্জা সম্পন্ন করা এবং এরপর শান্ত ও একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন