রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণের সুযোগ

নিউজ ডেস্ক

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এ তহবিল থেকে কোনো জামানত ছাড়াই ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

শুধু ঋণ নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ এবং ব্যবসায় সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবেও পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে অন্তত ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের বৈঠকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হলেও মূলধনের অভাবে উদ্যোগ নিতে পারছেন না, তাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ অনেক কম হবে।

মাসরুর আরেফিন জানান, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টেকসই করতে ঋণের পাশাপাশি অনুদানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ এবং ব্যবসার কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে যোগ্যতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ফলে জমি বা সম্পদ বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা থাকবে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, উদ্যোক্তার দক্ষতা এবং প্রকৃত উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো খাত নয়, উৎপাদন ও বাণিজ্য—দুই ধরনের উদ্যোগই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য খাতগুলোর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকারদের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূলধনের অভাবে ব্যবসা শুরু করতে না পারা তরুণদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন