রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দালাল ও সড়কব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন জাইমা রহমানের

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেশের সড়কব্যবস্থা, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া এবং সরকারি সেবায় দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন। পোস্টের সঙ্গে শৈশবে খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসা একটি ছবিও যুক্ত করেন তিনি।

জাইমা রহমান জানান, ১০ বছরেরও বেশি আগে লন্ডনে প্রথমবার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য দ্বিতীয়বার ড্রাইভিং টেস্ট দেন। দুটি পরীক্ষাতেই তিনি প্রথমবারে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে দুই দেশের ড্রাইভিং পরীক্ষার অভিজ্ঞতা তুলনা করে তিনি বলেন, একটি পরীক্ষা বাস্তব সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি। বিআরটিএর পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে গিয়ে শুধু লাইসেন্স বা পরীক্ষা নয়, সড়কব্যবস্থা ও সরকারি সেবার সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক নিয়েও ভাবতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, ঢাকাসহ দেশের অনেক তরুণের মধ্যে সড়কব্যবস্থা নিয়ে হতাশা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হলেও বাস্তবে সেই নিয়ম সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

পথচারীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়। কোথাও ফুটপাত শেষ হয়ে যায়, আবার কোথাও তা দখল হয়ে থাকে। এর মধ্যেই বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিভিন্ন ধরনের অলিখিত নিয়মে চলাচল করে।

সরকারি সেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়?’ অনলাইন প্রক্রিয়া চালু করার পরও কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য যদি নাগরিককে শেষ পর্যন্ত অফিসে গিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে সেই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কার্যকর বলা যায় না।

তার মতে, অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগের প্রতিটি ধাপ দেরি, পক্ষপাত কিংবা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দালালরা সরকারি ব্যবস্থার এসব দুর্বলতার সুযোগ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলেই দালালের কাছে যায়—বিষয়টি এমন নয়। বরং সরকারি প্রক্রিয়া যখন জটিল হয়ে ওঠে, তখন মধ্যস্থতাকারী অনেকের কাছে সহজ পথ হিসেবে দেখা দেয়। এতে দুর্নীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ ও আইন প্রয়োগের বিষয়ে ভালো নিয়ম থাকলেও সেগুলো যদি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়।

অভিযোগের প্রতিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করার পর উল্টো হয়রানি বা ভোগান্তির আশঙ্কা থাকলে মানুষ নিয়মতান্ত্রিক পথে না গিয়ে পরিচিত ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাইমা রহমানের মতে, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু গাড়ি, লাইসেন্স ও শাস্তির বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী, রাইডার, বাসচালক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও রিকশাচালক—সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দিতে হবে।

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে যানবাহনের লাইসেন্স ও ফিটনেস পরীক্ষা করেছিল এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন শুধু ‘সড়ক নিরাপদ নয়’—এমন অভিযোগ করলেই হবে না; বরং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হওয়ার পরও সেগুলোর সমাধান হয়নি কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

একই সঙ্গে সবার জন্য সমান সরকারি সেবা নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগে ন্যায্যতা আনা এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন জাইমা রহমান।

পরিবর্তন চাইলে শুধু নিয়ম পরিবর্তন নয়, সমস্যাগুলো দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও নতুন করে সাজাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন