রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে চুরি হচ্ছে ব্যক্তিগত ছবি, সতর্ক করল এফবিআই

নিউজ ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও চুরি করছে সাইবার অপরাধীরা। পরে এসব ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া, অবৈধ মার্কেটপ্লেসে বিক্রি কিংবা ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

এফবিআই জানিয়েছে, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়—অপ্রাপ্তবয়স্করাও এসব সাইবার অপরাধীর টার্গেটে পরিণত হচ্ছে।

যেভাবে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে হ্যাকাররা

সাইবার অপরাধীরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারলে সেখানে থাকা ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি বা ভিডিও খুঁজে চুরি করে।

চুরি করা কনটেন্ট পরে বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটি, ফোরাম কিংবা অবৈধ মার্কেটপ্লেসে ছড়িয়ে দেওয়া বা বিক্রি করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে ভুক্তভোগীর নাম, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ফোন নম্বর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীর নামও প্রকাশ করা হচ্ছে।

এতে ভুক্তভোগীরা পরবর্তী সময়ে হয়রানি, পরিচয় অপব্যবহার কিংবা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের মতো সেক্সটর্শনের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ভুয়া কাস্টমার কেয়ার সেজেও প্রতারণা

অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে হ্যাকাররা নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। পুরোনো ডেটা চুরির ঘটনায় ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা তার একটি।

আবার অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাস্টমার সার্ভিসের কর্মী সেজে ভুক্তভোগীকে বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা লক হয়ে যাওয়ার কথা বলে সেটি সচল রাখতে ভেরিফিকেশন কোড চাওয়া হয়।

ব্যবহারকারী সেই কোড দিয়ে দিলে হ্যাকার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে পুরো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

আসল ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া সাইট

ফিশিংয়ের মাধ্যমেও চলছে অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টা। হ্যাকাররা অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইট বা ই-মেইল তৈরি করে।

এসব বার্তায় নতুন কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে নিরাপত্তা যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীকে একটি লিংকে ঢুকে পাসওয়ার্ড দিতে বলা হয়। কিন্তু ওই ওয়েবসাইটটি থাকে সাইবার অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে।

এফবিআইয়ের পরামর্শ

অনলাইন অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) চালুর পরামর্শ দিয়েছে এফবিআই। একই সঙ্গে অপরিচিত লিংক, ই-মেইল বা মেসেজে আসা কোনো ভেরিফিকেশন কোড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ক্লাউড স্টোরেজ কিংবা ব্যক্তিগত ফোল্ডারে সংরক্ষিত ছবি ও ভিডিওর নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান সাধারণত হঠাৎ বার্তা পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড বা ভেরিফিকেশন কোড চাইবে না। তাই এমন বার্তা পেলে সরাসরি দেওয়া লিংকে প্রবেশ না করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই করাই নিরাপদ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন