রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অপ্রত্যাশিত মৃত্যু থেকে বাঁচতে ৫ আমল

নিউজ ডেস্ক

মৃত্যু অবধারিত। তবে প্রত্যেক মুমিনের কামনা থাকে, জীবনের শেষ মুহূর্ত যেন ঈমান ও নেক আমলের সঙ্গে কাটে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে মৃত্যু আসে। ইসলামী শিক্ষায় কিছু আমলকে নেক পরিণতি ও আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে কোনো আমলই মৃত্যুর সময় বা ধরন নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন করবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়। বরং এসব আমল নিয়মিত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও উত্তম পরিণতি কামনা করা যায়।

১. নিয়মিত সদকা করুন

সদকা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান-সদকা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

হাদিসে সদকার বিভিন্ন ফজিলতের কথা এসেছে। তাই শুধু বড় অঙ্কের অর্থ নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রকে সহায়তা করা, খাবার দেওয়া কিংবা কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতাও সদকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

২. মিসওয়াকের অভ্যাস করুন

মিসওয়াক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পছন্দনীয় আমলগুলোর একটি। হাদিসে মিসওয়াককে মুখের পবিত্রতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়মিত মিসওয়াক করা পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি একটি সুন্নত আমল পালনের সুযোগও তৈরি করে।

৩. দৃষ্টিকে সংযত রাখুন

ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশ্লীল দৃশ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সুরা নুর: ৩০-৩১)। তাই হারাম দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করা ঈমানের পরিচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৪. নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিন

নামাজ একজন মুসলমানের অন্যতম প্রধান ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা এবং নামাজে একাগ্রতা অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত কঠোরভাবে তুলে ধরেছেন। তাই নেক জীবন ও উত্তম পরিণতি কামনা করলে নামাজকে জীবনের কেন্দ্রীয় আমলগুলোর একটি হিসেবে ধরে রাখা জরুরি।

৫. সম্ভব হলে সবসময় অজু অবস্থায় থাকুন

অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতি নয়, এটি নিজেই একটি পবিত্রতার আমল। তাই সম্ভব হলে অজু অবস্থায় থাকার অভ্যাস করা ভালো।

অজু অবস্থায় থাকা মানুষকে নিয়মিত ইবাদতের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও গড়ে তোলে। তবে অজু অবস্থায় মৃত্যু হলেই নিশ্চিতভাবে নির্দিষ্ট কোনো মর্যাদা পাওয়া যাবে—এমন দাবির ক্ষেত্রে হাদিসের সূত্র ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে বলা উচিত।

সুন্দর পরিণতির জন্য কী করবেন?

মৃত্যুর সময় বা ধরন মানুষের হাতে নেই। তাই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঠেকানোর নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো আমলকে উপস্থাপন না করে বরং নামাজ, সদকা, দৃষ্টি সংযম, পবিত্রতা ও নিয়মিত নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জীবনের শেষ মুহূর্ত কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে প্রতিদিনই তওবা, ইবাদত ও সৎকাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত রাখাই উত্তম।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন