চা বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পানীয়। তবে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সাধারণ চায়ের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রিন টি। স্বাদে কিছুটা তেতো হলেও এতে থাকা ক্যাটেচিন, পলিফেনল ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে পানীয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
তবে গ্রিন টি কোনো রোগের ওষুধ বা ‘ম্যাজিক ড্রিংক’ নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি পরিমিত গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।
গ্রিন টি খাওয়ার সম্ভাব্য ৭ উপকার
১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন ও পলিফেনল শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
গ্রিন টির ক্যাফেইন ও ক্যাটেচিন শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করে ওজন কমানো সম্ভব নয়।
৩. হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে
কিছু গবেষণায় গ্রিন টি নিয়মিত পান করার সঙ্গে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্রোগের চিকিৎসা হিসেবে গ্রিন টি ব্যবহার করা যাবে না।
৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
গ্রিন টির কিছু উপাদান গ্লুকোজ বিপাকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার বিকল্প হিসেবে গ্রিন টিকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
৫. মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে
গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পাশাপাশি এল-থিয়ানিন রয়েছে। এই দুটি উপাদান সতর্কতা ও মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কাজ বা পড়াশোনার সময় অনেকের কাছে গ্রিন টি উপকারী মনে হতে পারে।
৬. মানসিক প্রশান্তিতে সহায়ক হতে পারে
এল-থিয়ানিনের কারণে গ্রিন টি পান করলে কিছু মানুষের শিথিলতা বা প্রশান্তির অনুভূতি হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ বা মানসিক চাপের চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
৭. হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে
গ্রিন টির পলিফেনল অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা আইবিএসের নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে গ্রিন টির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
ক্যানসার প্রতিরোধ করে কি?
গ্রিন টি ও ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ নিয়ে আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য থাকলেও গ্রিন টি পান করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ হবে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তাই ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, তামাক বর্জন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে কত কাপ গ্রিন টি?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত গ্রিন টি সাধারণত নিরাপদ। তবে এতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করলে অনিদ্রা, অস্থিরতা, মাথাব্যথা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে রাতে গ্রিন টি পান না করাই ভালো, যদি এতে ঘুমের সমস্যা হয়। আর যাদের আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা খাবারের সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন টি না পান করে কিছুটা বিরতি রাখলে ভালো।
কীভাবে পান করবেন?
চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি না মিশিয়ে গ্রিন টি পান করাই ভালো। স্বাদ অনুযায়ী সামান্য লেবু বা আদা যোগ করা যেতে পারে। সকালে বা দুপুরে পান করা অনেকের জন্য সুবিধাজনক। খালি পেটে পান করে অস্বস্তি হলে খাবারের পর পান করা যেতে পারে।
সবশেষে: গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো জাদুকরী পানীয় নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহারের পাশাপাশি পরিমিত গ্রিন টি পান করলেই এর সম্ভাব্য উপকার সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যেতে পারে।

