বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দিন গোনা ছাড়া আমার কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা লোডশেডিং পরিস্থিতির জন্য গ্যাস সরবরাহ সংকট ও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) সমস্যাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে সীমিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। এফএসআরইউ মেরামত শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘দিন গোনা’ ছাড়া তাঁর আর কিছু করার নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনা থেকেই বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, ওই সময় একটি এলএনজিবাহী জাহাজেও আগুন লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দ্রুত জাহাজটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

গ্যাস সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

দেশে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলে উৎপাদনও বাড়ছে। কিন্তু গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এফএসআরইউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

‘গরিবের টেসলা’ ব্যাটারি রিকশা

দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ধরনও বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আগে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকলেও এখন রাতেও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারি চালিত রিকশার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব যানবাহনের ব্যাটারি সাধারণত রাতে চার্জ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চলছে। লোডশেডিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানান তিনি।

‘আমার কিছু করার নাই, শুধু দিন গোনা’

বর্তমান সংকটে নিজের করণীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর হাতে সরাসরি সমাধানের সুযোগ সীমিত। গ্যাস উত্তোলন বা এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এফএসআরইউর ওপর নির্ভরতা রয়েছে।

তাঁর ভাষায়, এখন প্রকৌশলীরা এফএসআরইউ মেরামতের কাজ করছেন। সেই কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পাশাপাশি কীভাবে কম লোডশেডিং করা যায় এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়, সেই ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিদেশ থেকে দ্রুত এনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমদানিনির্ভর গ্যাস ব্যবস্থায় অবকাঠামো ঘাটতি

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর গ্যাস ব্যবস্থার দিকে এগিয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

ভবিষ্যতে আমদানি করা গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে অবকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে দেশে অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম বাড়ালেই পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তাই দেশীয় অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমদানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন