সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চিকেনস নেক-এ চতুর্থ রেললাইন অনুমোদন দিলো ভারত

নিউজ ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এ চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীবাস্তব জানান, করিডোরটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক অবকাঠামো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনমাই ঘাট থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন ভূগর্ভস্থ প্রকল্প রয়েছে।

তিনি বলেন, এ সেকশনে আগে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এবার একই সঙ্গে চতুর্থ লাইন নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’

শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের উত্তরবঙ্গের একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভারতের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত করেছে। অঞ্চলটির প্রস্থ কোথাও প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

ফলে এই করিডোরে যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে ভারত সরকার।

শ্রীবাস্তবের আশা, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো রেল করিডোরের সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং অঞ্চলটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও সুসংগঠিত হবে।

বাড়ছে রেল অবকাঠামো

এনএফআর জানিয়েছে, বর্তমানে বারসোই সেকশনে রেললাইন দ্বিগুণ করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় কাটিহার বিভাগজুড়ে অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে চেতন কুমার শ্রীবাস্তব বলেন, গত বছর বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যুক্ত করা হয়েছে প্রায় ২৫০টি নতুন স্টপেজ।

এ ছাড়া নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পুনর্গঠন কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সীমান্ত ও দুর্গম এলাকায় নতুন ট্রেন

যোগবানী, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে শিগগিরই নতুন লোকাল ট্রেন চালুর চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন এনএফআরের এই কর্মকর্তা। এসব পরিষেবা চালু হলে সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এনএফআর নেটওয়ার্কের শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এখন বৈদ্যুতিক ট্রেনের চলাচল আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তর-পূর্বে বাড়বে বন্দে ভারত

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুয়াহাটি ছাড়িয়ে তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত উভয় দিকেই বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শ্রীবাস্তব।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত, সক্ষম ও আধুনিক হবে বলে আশা করছে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন