সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদও বক্তব্য দেন।
সভায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হামলাকারীরা যাতে কোথাও বোমা বা বিস্ফোরক রেখে যেতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
এ জন্য প্রয়োজনে নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা থেকে বোমা উদ্ধারের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে সিটিটিসি ১১টি পাইপবোমা ও বিস্ফোরকসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের সাধুপুর এলাকা থেকে একটি প্রেশার কুকারের ভেতরে থাকা আইইডি উদ্ধার করা হয়।
আইজিপি বলেন, রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। তাই ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার মোকাবিলাও বর্তমানে পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সভায় ডিএমপি কমিশনার মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখা, হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

