শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বাড়াতে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে এসব হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসে হাসপাতালগুলো একযোগে চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন-২ উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা নয়। দক্ষ জনবল, সুশাসন, সময়োপযোগী নীতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নতুন নিউরোসায়েন্স ভবনকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের স্নায়ুরোগ চিকিৎসার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তারেক রহমান জানান, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে রোগীর চাপ ও চিকিৎসার চাহিদা বাড়ায় হাসপাতালটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ কাজে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হেলথ টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিলতাসহ স্নায়ুবিক রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ। এসব রোগের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনও দেশে ক্রমেই বাড়ছে।
নতুন ৫০০ শয্যার ভবনে আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত রোগনির্ণয় সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড থাকায় রোগীর চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তার মতে, অতিরিক্ত শয্যা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে নতুন এই অবকাঠামো দেশের বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়াবে।
তবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু প্রযুক্তি ও অবকাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসাসেবায় মানবিক আচরণ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারলেও রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বোঝার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিকতার বিকল্প নেই।
চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বা অবিশ্বাস তৈরি হলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা কঠিন হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

