সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

নিউজ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি।

স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র। মূল কম্পনের পর ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের উচ্চতা পরিবর্তনের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যেই আতঙ্কিত হয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান।

ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অনেক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থাতেই প্রাণ হারিয়েছেন।

বন্দরে ভেঙে পড়ল ভবনের অংশ

ভূমিকম্পে মৌমেরে বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের একটি অংশ ভেঙে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর পড়ে। এ সময় জাহাজে ওঠানামার সিঁড়ি ভেঙে কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে যান।

সিক্কা এলাকার বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, তীব্র কম্পনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। সমুদ্রের পানি হঠাৎ নিচের দিকে সরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেকে পাহাড় ও উঁচু সড়কের দিকে ছুটে যান।

রুটেং শহরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, এর আগে তিনি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করেননি। তাঁর ভাষায়, কম্পনের সময় মনে হচ্ছিল যেন তাঁরা ট্রামপোলিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বহু স্থাপনা

প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পে অন্তত ৫৪টি বাড়ি, পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদামঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গরাই প্রদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএনপিবি।

উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে দুর্যোগের প্রকৃত মাত্রা আরও স্পষ্ট হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন