রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট-খাবারও শেষ, ভূমধ্যসাগরে প্রা*ণ গেলো ১১ বাংলাদেশির

নিউজ ডেস্ক

লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার সময় খাবার ও পানির সংকটে একে একে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা।

পরে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। নৌকায় থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

যাত্রার কিছু সময় পর নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে সঙ্গে থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে যাত্রা চালিয়ে যেতে বাধ্য হন তারা।

গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে মাঝসমুদ্রে নৌকাটি ভাসতে থাকে। এ অবস্থায় টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে সেটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম জানান, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর তারা আর সামনে এগোতে পারেননি। এ সময় তাদের উদ্ধারে দালালদের পক্ষ থেকে কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল করিম বলেন, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই নয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। পরে আরও দুজন মারা যান।

দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি। দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়ে আব্দুল করিম বলেন, তারা এখন মিশরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাবার দিচ্ছেন।

এদিকে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাদরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহতরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার এমন ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকিও আবার সামনে এসেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন