নিউজ ডেস্ক
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো দরুদ পাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের দরুদ পাঠের পদ্ধতিও শিক্ষা দিয়েছেন। তাই মুসলমানের জীবনে দরুদ শুধু একটি আমল নয়, বরং নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
হাদিসে বর্ণিত ‘দরুদে ইবরাহিম’ নামাজের শেষ বৈঠকে পাঠ করা হয়। এর মাধ্যমে মহানবী (সা.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনা করা হয়।
দরুদ পাঠের বিভিন্ন ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি হলো—
১. বাড়ে সওয়াব, মাফ হয় গুনাহ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ তাঁর প্রতি একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিস দরুদ পাঠের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরে।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, একবার দরুদ পাঠের মাধ্যমে ১০টি গুনাহ মুছে দেওয়া হয় এবং ১০ ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে নিয়মিত দরুদ পাঠ নেক আমল বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
২. কিয়ামতের দিন নবীজির নৈকট্য
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা তাঁর নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবেন সেই ব্যক্তি, যিনি তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছেন।
তাই দরুদ পাঠ শুধু জিহ্বার আমল নয়; এটি নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের আকাঙ্ক্ষাকেও গভীর করতে পারে।
৩. দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তির আশা
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর দোয়ার কতটা অংশ দরুদ পাঠে ব্যয় করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যত ইচ্ছা দরুদ পাঠ করতে বলেছেন এবং তা বাড়ালে কল্যাণের কথা জানিয়েছেন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ যদি তার সব দোয়ার পরিবর্তে দরুদ পাঠকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তার দুশ্চিন্তা দূর করা এবং গুনাহ ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে।
নিয়মিত জিকির ও দরুদ পাঠ মানুষের মনে প্রশান্তি ও স্থিরতা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। ব্যস্ত জীবনে এটি আত্মিক চর্চারও একটি মাধ্যম।
৪. দোয়ার আগে দরুদ পাঠের গুরুত্ব
দোয়ার সঙ্গে দরুদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। হাদিসে দোয়ার আদব হিসেবে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করা, এরপর নবীজির (সা.) প্রতি দরুদ পাঠ এবং তারপর নিজের প্রয়োজনের কথা বলার নির্দেশনা পাওয়া যায়।
এ কারণে অনেক মুসলিম দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পাঠ করেন। এটি দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদবগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
৫. হৃদয় পরিশুদ্ধ করার আমল
দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জাগ্রত করতে পারে। তাঁর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ স্মরণ করার মাধ্যমে নিজের আচরণ ও নৈতিকতা পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি হয়।
নবীজির (সা.) শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার পথে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত দরুদ পাঠ সেই আত্মিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি মাধ্যম।
দরুদ পাঠ হোক দৈনন্দিন আমলের অংশ
ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় মানুষ ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির চর্চা থেকে দূরে সরে যায়। অথচ অল্প সময়ের মধ্যেই দরুদ পাঠ করা সম্ভব। তাই দৈনন্দিন জীবনে সুযোগ পেলেই মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা যেতে পারে।
তবে দরুদ পাঠের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করাই হওয়া উচিত তাঁর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করলেই সেই ভালোবাসা বাস্তব অর্থে প্রতিফলিত হবে।

