দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। ইসি সচিব বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল এবং জাতীয় সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেন।
গত ১৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন। শুনানিতে তিনি নিজেই রিটকারীর পক্ষে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করার পাশাপাশি ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছিল।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। এই বিধান বহাল রেখেই গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে ২০১৮ সালেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। পরে হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

