মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মিয়ানমারের দূতকে ডেকে ঢাকার বার্তা, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি নয়’

নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার মিয়ানমারের বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষও স্বীকার করে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট উইংয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ আগস্টের বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে ভুল পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে। জাতিসংঘের ব্যবস্থার অধীনে নিবন্ধিত তথ্যেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়েও আপত্তি জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়, রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়; তাদের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও এই পরিচয় স্বীকার করেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

নতুন রোহিঙ্গাদেরও যাচাইয়ের আওতায় আনার আহ্বান

দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্মত ব্যবস্থার আওতায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ করছে বলেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, আগের হিসাবে থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের বাইরে নতুন করে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধও জানায় ঢাকা।

প্রত্যাবাসনে অঙ্গীকারের কথা জানাল মিয়ানমার

বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে। যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচাই করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন