নিউজ ডেস্ক
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২৪ আগস্ট প্রকাশিতব্য খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ভোটাররা দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ অক্টোবর।
সোমবার গণনা ফরম জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯৭ লাখ ৪৭ হাজার ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। এসআইআর শুরুর সময় দিল্লিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৬৭ শতাংশের তথ্য ডিজিটাইজ করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে প্রায় ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ভোটারের তথ্য, যা মোট ভোটারের প্রায় ৩৩ শতাংশ, এখনো সংগ্রহ করা যায়নি। এসব ভোটারকে প্রাথমিকভাবে ‘অসংগ্রহযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর মধ্যে থাকতে পারেন অনুপস্থিত ভোটার, ঠিকানা পরিবর্তনকারী ব্যক্তি, মৃত ভোটার, একই ব্যক্তির একাধিক নাম এবং অন্যান্য কারণে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এমন ভোটার।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি
এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে। এই জেলায় গণনা ফরম ডিজিটাইজেশনের হার মাত্র ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। জেলার আওতায় রয়েছে ওখলা, সঙ্গম বিহার, বদরপুর, জাংপুরা, তুঘলকাবাদ ও কালকাজির মতো এলাকা।
এসআইআর শুরুর আগে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ১৫ লাখ ৫ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় না থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ওই এলাকার অনেক পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের নিজ নিজ রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেকে ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি শেষ করতে পারেননি।
ওখলায় বাদ পড়ার আশঙ্কা লাখের বেশি নাম
ওখলার আম আদমি পার্টির বিধায়ক ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা আমানতুল্লাহ খান আগেই অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে।
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) বাড়ি বাড়ি যাননি বা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, সে বিষয়েও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির তুঘলকাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে ১ লাখ ৯২ হাজার ৪১৯ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৩২৩ জনের গণনা ফরম ডিজিটাইজ হয়েছে। অর্থাৎ ডিজিটাইজেশনের হার মাত্র ৫২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
অন্যান্য এলাকাতেও বড় সংখ্যক নাম বাদ পড়ার শঙ্কা
দিল্লি ক্যান্টনমেন্টসহ নয়াদিল্লি জেলায় গণনা ফরম ডিজিটাইজেশনের হার ৬০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ফলে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বসবাস বেশি হওয়ায় ঘন ঘন বদলি ও বাসস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রভাব ফেলেছে।
দক্ষিণ দিল্লিতে ডিজিটাইজেশনের হার ৬১ দশমিক ৩২ শতাংশ। মধ্য দিল্লিতে তা ৬১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
তবে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে উত্তর-বহির্ভাগ দিল্লি ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি। এসব এলাকায় যথাক্রমে ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও ৭৩ দশমিক ১৬ শতাংশ ফরম ডিজিটাইজ হয়েছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ৭০ দশমিক ৯৪ শতাংশ ফরম ডিজিটাইজ করা হয়েছে।
এদিকে মুসলিম অধ্যুষিত বলে পরিচিত শীলমপুর, মাটিয়া মহল, বাবরপুর, মুস্তাফাবাদ, বল্লিমারান, চাঁদনি চক ও ওখলা—এই সাতটি কেন্দ্রে গড় ডিজিটাইজেশন হার প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে ২৪ আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায়, এই বিপুলসংখ্যক নাম শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও বাদ যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

