রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ছোট মাছ খাওয়ার উপকারিতা, মিলতে পারে যে পুষ্টিগুণগুলো

নিউজ ডেস্ক

মাছ বাঙালির খাবারের তালিকায় বহুল প্রচলিত একটি পুষ্টিকর খাদ্য। প্রোটিনের পাশাপাশি মাছ থেকে আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই প্রচলিত কথাটিই খাদ্য হিসেবে মাছের সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়। নদী, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়সমৃদ্ধ বাংলাদেশে বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছও সহজলভ্য। মলা, ঢেলা, কেঁচকি, কাজলি, পুঁটি, টেংরা, চাঁদা, বাতাসি ও খলসে—এসব মাছ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।

আমিষের ভালো উৎস ছোট মাছ

ছোট মাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উন্নতমানের প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোট মাছে প্রায় ১৪ থেকে ১৯ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে। শরীরের বৃদ্ধি, কোষ ও টিস্যুর ক্ষয়পূরণ এবং দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে এই প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী এবং প্রসূতি মায়ের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন। শিশুদের বেড়ে ওঠার সময়ে খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি হলে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিশুর পরিপূরক খাবারে তাই মাছের মতো প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস যুক্ত করা যেতে পারে। বয়স উপযোগী খাবারের সঙ্গে ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা ছোট মাছ মিহি করে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ভিটামিন ‘এ’-এর উৎস

কিছু ছোট মাছ, বিশেষ করে মলা ও ঢেলা, ভিটামিন ‘এ’-এর ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। দৃষ্টিশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যে দীর্ঘদিন ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকলে রাতকানা, চোখের শুষ্কতা ও অন্যান্য দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মাছের পাশাপাশি শাকসবজি, ডিম, দুধ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন।

কাঁটাসহ খেলে মিলতে পারে ক্যালসিয়াম

ছোট মাছের একটি বিশেষ সুবিধা হলো—অনেক প্রজাতি নরম কাঁটাসহ খাওয়া যায়। কাঁটাসহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

হাড় ও দাঁতের গঠন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। শিশুদের বেড়ে ওঠা এবং নারীদের জন্যও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোট মাছ ভালোভাবে রান্না করে নরম করে খাওয়ার অভ্যাস খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে।

সামুদ্রিক ছোট মাছে আয়োডিন

কিছু সামুদ্রিক ছোট মাছ থেকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পাশাপাশি আয়োডিনও পাওয়া যায়। শরীরে থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন প্রয়োজনীয়।

আয়োডিনের ঘাটতি হলে গলগণ্ডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত আয়োডিন পাওয়া মা ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আয়োডিনযুক্ত লবণের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দামেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী

বড় মাছের তুলনায় অনেক ছোট মাছ সাধারণত কম দামে পাওয়া যায়। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারের জন্যও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ছোট মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে ভাত বা অন্যান্য শস্যের সঙ্গে মাছ, ডাল, শাকসবজি, ফল, ডিম ও প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ বা দুধজাত খাবার মিলিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা তৈরি করা জরুরি।

ছোট মাছ তাই আকারে ছোট হলেও পুষ্টির দিক থেকে মোটেও ছোট নয়। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কারণে সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট মাছকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন বৈচিত্র্যপূর্ণ ও পরিমিত সুষম খাদ্য—আর সেই খাদ্যতালিকায় ছোট মাছ হতে পারে পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী একটি উপাদান।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন