সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এবার ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ দাবি করে মানচিত্র প্রকাশ ইরানের

নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া পোস্টের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের একটি সরকারি-সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী চিহ্নিত করে ওপরে লেখা হয়—‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের পরই নতুন করে এমন পোস্ট সামনে এলো।

পরে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও ট্রাম্পের পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করা হয়।

এর পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ভারতে অবস্থিত ‘ইরান ইন হায়দ্রাবাদ’ নামের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়—‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও এক্সে মন্তব্য করেন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে তিনি বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর এই ধারণা শিগগিরই সংশোধন হবে; তা না হলে ইরানই এই ভুল ধারণার অবসান ঘটাবে।

ইরানের পাল্টা পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে বেছে নেওয়ার পেছনে সেখানে বড় ইরানি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বসবাস একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

ইউসিএলএর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতেই প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি সংস্কৃতি ও প্রবাসী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে এলাকাটি ‘তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত।

দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এলো। যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করতে জুনে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তোলে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা ইরানের এই প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনারই নতুন বহিঃপ্রকাশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন