রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, চাইলেন দলীয় এমপিদের ভোট

নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এক দিন আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।

বৈঠকের শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্যদের জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার তার চোখে পানি আসে।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফখরুল বলেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ফখরুল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

ফখরুলের আবেগঘন বক্তব্যের সময় সভায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বলে সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দলের সংকটময় সময়ে সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ফখরুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বহু বছর ধরে মির্জা ফখরুল দলের সঙ্গে যুক্ত। বিএনপির কঠিন সময়ে তিনি দলের হাল ধরে রেখেছেন এবং কখনো দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে।

বৈঠকে দলীয় সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক এলাকায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের দূরত্ব যাতে আরও বাড়তে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

তারেক রহমান জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এই নির্বাচন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অতীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। দলীয়ভাবে সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা—দুইয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন