রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গুলশানের উপকণ্ঠে গুদারাঘাট: পারাপারের আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য

হাবিব সরকার স্বাধীন | ঢাকা

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এলাকা গুলশান-১ সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্টের ঠিক পাশেই অবস্থান গুদারাঘাটের। একদিকে ঝলমলে কর্পোরেট গুলশান, অন্যদিকে কড়াইল বস্তি—এই দুইয়ের সংযোগস্থল এই পারাপার ঘাটটি এখন অপরাধ চক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের আড়ালে এখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও বিদ্যুৎ চুরির সিন্ডিকেট, যা হুমকির মুখে ফেলছে সার্বিক জননিরাপত্তা।

পারাপারের আড়ালে চাঁদাবাজি ও মাদক পাচার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুদারাঘাট দিয়ে নৌকায় কড়াইল বস্তিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। এই পারাপারকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা তুলছে। সন্ধ্যানামেলেই পাল্টে যায় ঘাটের চিত্র। পারাপারের আড়ালে বনানী ও গুলশান সীমান্ত ব্যবহার করে চলে বেপরোয়া মাদক পাচার। রাত বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা।

ঘাট ও আশপাশের এলাকা ঘেঁষে গড়ে ওঠা রিকশার গ্যারেজগুলোতে দেখা গেছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মহোৎসব। অনিয়ন্ত্রিত এই ব্যবস্থার কারণে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকাটি অন্ধকারে ঢেকে গিয়ে এক ভূতুড়ে রূপ নেয়।

এলাকার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল অভিযোগ করেন, “সন্ধ্যা নামলেই এই এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের হাঁটার কোনো পরিবেশ থাকে না। চারপাশ থেকে গাঁজা ও মাদকের কড়া ধোঁয়ার গন্ধ ভেসে আসে। চারপাশের অনিয়ন্ত্রিত গ্যারেজ আর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। সন্ধ্যার পর এলাকাটা পুরো অন্ধকার ও ভীতিপ্রদ হয়ে পড়ে।”

পুলিশ চেকপোস্টের একেবারেই কাছে এমন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারী ও স্থানীয়রা। তাদের মতে, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কূটনৈতিক এলাকার সীমান্ত ঘেঁষে এভাবে অপরাধ চক্র সক্রিয় থাকা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে পুলিশের টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন