রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে— প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে প্রান্তিক মানুষ, শ্রমজীবী ও দিনমজুররা দুবেলা পেট ভরে খেতে পারবেন এবং সুস্থ, নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিত হবে—এটাই তার প্রত্যাশা। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে পাশে থাকা দেশবাসী, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিশেষভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার নেতৃত্বেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে রাজনৈতিক জীবনের অনেক কিছুই তিনি মিস করবেন। সবার সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে তিনি দেশ গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

কথা বলতে গিয়ে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই দিনে সবচেয়ে বেশি যার কথা মনে পড়ছে, তিনি খালেদা জিয়া। তার সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়ার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

এদিকে আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন ভোটগ্রহণ পরিচালনা করবেন।

মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, দুপুর ২টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে নিজের ভোট দেবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। ঠাকুরগাঁওসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে সেখানে ভিড় করছেন। মির্জা ফখরুল তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চাইছেন।

এর আগে বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল। মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তার শেষ সংসদীয় দলের সভা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে।

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে ভাসানী ন্যাপে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন