মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতোটুকু, কী কী সুবিধা পান তিনি?

নিউজ ডেস্ক

প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, আর প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান। সংবিধান অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই দলের সংসদীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন।

দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস বা পরিবর্তন করা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

সাংবিধানিক দায়মুক্তি

দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিধান রয়েছে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না এবং তাকে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের সুযোগ রয়েছে।

মেয়াদ ও যোগ্যতা

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

বেতন ও সরকারি সুবিধা

রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তা আয়করমুক্ত। সরকারি বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ব্যবহার করেন। এর রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়।

সরকারি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি গাড়ি ও অন্যান্য পরিবহন সুবিধা পান। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসার ব্যয়ও সরকার বহন করতে পারে।

স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও অন্যান্য সুবিধা

রাষ্ট্রপতির জন্য বছরে দুই কোটি টাকা স্বেচ্ছাধীন তহবিলের ব্যবস্থা রয়েছে। বিমানভ্রমণের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিমাসুবিধাও নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ব্যয়ের জন্যও সরকারি সুবিধা বরাদ্দ থাকে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। রাষ্ট্রপতির পদ তাই মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বে অত্যন্ত উচ্চ হলেও তার বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা সংবিধানের নির্ধারিত সীমা এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন