রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

উসাইন বোল্টকে ছাড়িয়ে গতির বিশ্ব রেকর্ড গড়ল রোবট সুপারম্যান

নিউজ ডেস্ক

বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের গতিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছে চীনের একটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ‘সুপারম্যান’ নামের নতুন এক মানবাকৃতির রোবট ট্র্যাকে ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৩ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২ দশমিক ৬৬ মিটার গতিতে দৌড়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি।

২০০৯ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্ট ঘণ্টায় ২৭ দশমিক ৭৮ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২ দশমিক ৪২ মিটার গতিতে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, ভিডিওতে প্রদর্শিত গতির ভিত্তিতে নতুন রোবটটি বোল্টের রেকর্ড গতির চেয়ে সামান্য বেশি গতি তুলেছে।

চীনের হাংঝৌভিত্তিক রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি ‘সুপারম্যান’ প্রোটোটাইপটি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশ করা ভিডিওতে রোবটটিকে ট্র্যাকে দ্রুতগতিতে দৌড়ানোর পাশাপাশি স্থির অবস্থা থেকে প্রায় দুই মিটার উল্লম্বভাবে লাফ দিতে দেখা গেছে।

ইউনিট্রি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করে দাবি করেছে, নতুন রোবটটি মানুষের সক্ষমতার সীমাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রোবটটি তৈরিতে তিন মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছে। এর পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় শূন্য দশমিক ৮৫ মিটার। তুলনামূলক ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে এত বেশি গতি অর্জনের বিষয়টিকে রোবটটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে রোবটটির মোট উচ্চতা, ওজন, ব্যাটারির সক্ষমতা এবং প্রদর্শিত দৌড় ও লাফের পরীক্ষা কতবার করা হয়েছে—এসব বিস্তারিত কারিগরি তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ইউনিট্রি। ফলে প্রদর্শিত সর্বোচ্চ গতি কতটা পুনরাবৃত্তিযোগ্য, তা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

এর আগে ইউনিট্রির তৈরি এইচ১ মডেলের মানবাকৃতির রোবট প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বা ঘণ্টায় প্রায় ২২ দশমিক ৩ মাইল গতিতে দৌড়ে আলোচনায় এসেছিল। নতুন ‘সুপারম্যান’ সেই সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মানবাকৃতির রোবটের দ্রুত দৌড়ানো ও লাফানোর সক্ষমতা ভবিষ্যতে শুধু বিনোদন বা প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুর্যোগপূর্ণ এলাকা, দুর্গম ভূখণ্ড, উদ্ধার অভিযান এবং মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এ ধরনের রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মানুষের গতির সঙ্গে রোবটের সক্ষমতার তুলনা করতে হলে শুধু একবারের সর্বোচ্চ গতি নয়, স্থায়িত্ব, শক্তি খরচ, নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য ও একই কর্মক্ষমতা বারবার প্রদর্শনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন