দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট কাটাতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক ‘অতীব জরুরি’ চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন পরিচালক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল ঘাটতি পূরণে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী পদোন্নতি অথবা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের সব শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রধান সহকারী পদ ১৩তম গ্রেডে থাকলেও ২০১৮ সালের বিধিমালায় তা ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ কারণে পদোন্নতিতে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসনে ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী বা সমমান পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্য পদে নিজ বেতনে বা চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে এই জনবল নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কর্মী সংকট কমার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবার সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

