এলএনজি সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে থাকা মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আবার চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই এলএনজিবাহী কার্গো পৌঁছানোয় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে টার্মিনালটি পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়বে এবং শনিবার রাত ৯টার দিকে নতুন কার্গো থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজি নিয়ে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন বন্দর থেকে এসেছে।
নতুন কার্গো আসার পর টার্মিনালটি সচল করা হয়। এর আগে টার্মিনালে থাকা অবশিষ্ট এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর থেকেই প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
মহেশখালীতে থাকা অপর ভাসমান টার্মিনালটি পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।
কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। এক্সিলারেটের টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকেলে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে নির্ধারিত সময়ে নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক ২৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়।
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে আগুন লাগার পর এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে টার্মিনাল চালু হলেও এলএনজি সরবরাহের ঘাটতির কারণে আবারও সংকটে পড়ে। একই সময়ে সামিটের টার্মিনালও এলএনজি সংকটে বন্ধ ছিল।
রোববার থেকে দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভবিষ্যতে এই সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ মাসিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এলএনজিবাহী জাহাজের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

