সফর মাস শেষ হয়ে শুরু হয়েছে আরবি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় মুসলিমদের কাছে এ মাসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত মতে, রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। একই তারিখে মহানবী (সা.)-এর ওফাত হয়েছে বলেও উল্লেখ পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের কারণে যেমন রবিউল আউয়াল গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সোমবার দিনটিরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মহানবী (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ দিনই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এ দিন তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছে। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’
একইভাবে মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে। অর্থাৎ মুসলিম জীবনে নবীজির আদর্শ অনুসরণই তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের অন্যতম প্রধান প্রকাশ।
রবিউল আউয়ালে বিশেষ কোনো আমল আছে?
ইসলামি স্কলারদের মতে, রবিউল আউয়াল মাসকে কেন্দ্র করে কুরআন-হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ইবাদতের নির্দেশনা নেই। তবে অন্য মাসের মতো এ মাসেও ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি নফল আমল করা যেতে পারে।
এর মধ্যে সোমবার রোজা রাখা অন্যতম আমল। মহানবী (সা.) নিয়মিত সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। হাদিসে এসেছে, এ দুই দিনে বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয় এবং নবীজি (সা.) চাইতেন তাঁর আমল রোজা অবস্থায় পেশ করা হোক।
তাই রবিউল আউয়াল মাসে মুসলমানরা ফরজ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও অন্যান্য নফল ইবাদতে মনোযোগী হতে পারেন। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও সুন্নাহ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
১২ রবিউল আউয়াল উদ্যাপন নিয়ে মত
১২ রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজন হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়ালকে বিশেষভাবে উৎসব বা শোক দিবস হিসেবে পালনের নির্দিষ্ট ভিত্তি কুরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, সাহাবায়ে কেরামও এ দিনকে আলাদাভাবে উদ্যাপন করেননি।
তাঁর পরামর্শ হলো, নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করা এবং শরিয়তসম্মত ইবাদত ও নেক আমল করা।
হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করা হলে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। এ কারণে কোনো আমল বা আয়োজনকে ধর্মীয়ভাবে পালন করার আগে তার শরিয়তসম্মত ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি থাকবে।
রবিউল আউয়াল মুসলমানদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নতুন করে স্মরণ করার একটি সুযোগ। তাঁর প্রতি ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রকাশ হিসেবে তাঁর শিক্ষা, চরিত্র ও সুন্নাহ অনুসরণ এবং মানবকল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

