বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের দামে।
কোম্পানির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে মেমোরি, সাবস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)নির্ভর ডেটা সেন্টার নির্মাণের ব্যাপক প্রবণতায় চিপের চাহিদা বেড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)-র ওপরও। অ্যাপল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে টিএসএমসি। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ চললেও সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণ বিবেচনায় টিএসএমসি চিপ উৎপাদনের মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং নিজেদের মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতে কোয়ালকমও চিপের দাম বাড়ানোর পথে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানির আর্থিক ফল প্রকাশের সময় কোয়ালকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে মূল্য সমন্বয় এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কোয়ালকমের মোট রাজস্ব ৯.৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও প্রতিষ্ঠানটির মূল হ্যান্ডসেট চিপ ব্যবসার আয় ২০ শতাংশ কমে ৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা ব্যয়বহুল ফ্ল্যাগশিপ ফোনের পরিবর্তে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মডেলের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা ও আসুসসহ বিশ্বের অনেক বড় অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নির্মাতা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন চিপের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চিপের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোনের খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসতে যাওয়া ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তবে নির্মাতারা বাড়তি ব্যয়ের কতটা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

