মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আরও কার্যকর ও অর্থবহ চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অংশীদারিত্ব, স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতির এক সম্মিলন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করাও জরুরি।

তিনি বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের বোঝা একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই আরও বড় আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে বৈদেশিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রচলিত পদ্ধতিতে আগামী দিনগুলোতে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগও ধীরে ধীরে অন্য সংকটের দিকে সরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী লাকি করিম বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর আগে রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে তারা মানবিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন