মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট

নিউজ ডেস্ক

মহেশখালীর ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে দুই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, দিনের শেষ নাগাদ সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কিছুটা কমে আসার আশা করা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে এলএনজিবাহী একটি নতুন জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসে পৌঁছায়। পরে জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার বিকেল থেকে ওই টার্মিনাল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।

টার্মিনালসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রোববার সকালে দুই টার্মিনাল থেকে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। অথচ টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেলের দিকে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেট টার্মিনাল ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। রাতের দিকে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়।

এর আগে টানা প্রায় ২৫ দিনের গ্যাস সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গিয়ে গত বুধবার বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো আসার পর শনিবার আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ আগস্ট পুনরায় এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না থাকায় সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করছিল। এ সময় সামিটের টার্মিনাল থেকে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি গ্যাস দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এলএনজি কার্গো আসায় এখন সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন