সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সংলাপ ব্যর্থ : কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

তিন দিন ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার কয়েকটি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে নতুন এ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে কানাডাকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে কাঠের তৈরি আইস হকি স্টিক, দুগ্ধজাত পণ্য, আসবাবপত্র, মাছ ধরার ছিপ, বিভিন্ন গাছপালা ও সবজির বীজ, কাপড়, পরচুলাসহ আরও বেশ কিছু পণ্য। এসব পণ্যের মোট আমদানি মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

মার্কিন কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৮ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। সেই হিসাবে নতুন শুল্কের আওতাভুক্ত পণ্য মোট কানাডীয় আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ।

তবে অর্থনৈতিক মূল্যের তুলনায় এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপ স্থগিত করেছেন এবং কানাডীয় আলোচকদের দেশে ফিরে আসতে বলেছেন। তার ভাষ্য, কানাডার আলোচক দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পুরোপুরি কানাডাকে দায়ী করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে কানাডার অনাগ্রহের কারণেই আলোচনা সফল হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছিল। চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ার একটি সুযোগ হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নতুন শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন