রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ওপর নতুন চার্জ আরোপের পথে ভারত

নিউজ ডেস্ক

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ’ আরোপ হতে যাচ্ছে। এতে আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি খরচ হবে বাংলাদেশের।

বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের বাইরে আলাদাভাবে এই চার্জ দিতে হবে। গ্রিড পরিচালনা, বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের নিষ্পত্তি ব্যয় মেটাতে এ ধরনের চার্জ নেওয়া হয়।

এ লক্ষ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০১ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ দাবি করেছিল। পরে বিপিডিবির দরকষাকষির মাধ্যমে তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভারতের বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী এ চুক্তি করা প্রয়োজন। চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই ধরনের এসএনএ চার্জ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকেও দিতে হয়।

প্রস্তাবিত হার অনুযায়ী, ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় আমদানি করা হলে প্রতি ঘণ্টায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি হিসাবে এ পরিমাণ বিদ্যুতের জন্য প্রতি ঘণ্টায় এসএনএ চার্জ দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল মূল্য নয়। এটি মূলত আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা, সময়সূচি সমন্বয়, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ এবং আর্থিক নিষ্পত্তির খরচ।

ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেনে এসএনএ সময়সূচি সমন্বয়, গ্রিড-সংক্রান্ত বিভিন্ন চার্জ, নির্ধারিত সরবরাহের তুলনায় কম-বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেভিয়েশন চার্জ এবং রিঅ্যাক্টিভ এনার্জি চার্জসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

এই পাঁচটি উৎসের মোট ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্ষেত্রেই মূলত এসএনএ চার্জ সংক্রান্ত চুক্তি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি পাওয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এ ক্ষেত্রে আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন