বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করাই কঠিন। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন থেকে শুরু করে নানা প্রয়োজনে মানুষ দিনের বড় একটি সময় মোবাইল ফোনে কাটাচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহারের কারণে ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষ করে ফোনের রেডিয়েশন এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তরঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী শক্তিশালী রেডিয়েশনের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
ভারতের ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ও মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. সানি জৈন এক সাক্ষাৎকারে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নিয়ে প্রচলিত নানা ধারণা ব্যাখ্যা করেছেন।
মোবাইলের রেডিয়েশন কেমন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেডিয়েশন প্রধানত আয়নাইজিং ও নন-আয়নাইজিং—এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক্স-রে ও গামা রশ্মির মতো আয়নাইজিং রেডিয়েশনের শক্তি বেশি। নির্দিষ্ট মাত্রায় এগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদিকে মোবাইল ফোন ও সেল টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত। এর শক্তি আয়নাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো সরাসরি ডিএনএ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা জানতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। বড় আকারের বেশ কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ব্রেন টিউমার হওয়ার সুস্পষ্ট কারণ-সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘমেয়াদি মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিয়ে পরিচালিত ‘কসমস’সহ বিভিন্ন গবেষণাতেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই ব্রেন টিউমার হবে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও মনে করিয়ে দেন, মোবাইল ফোনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তাই কোনো একটি গবেষণার ভিত্তিতে বিষয়টিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা ঠিক নয়।
টাওয়ারের কাছাকাছি থাকলে কি ক্যান্সার হয়?
মোবাইল টাওয়ার নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয় রয়েছে, তার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি নন-আয়নাইজিং হওয়ায় এটিকে এক্স-রে বা অন্য উচ্চশক্তির আয়নাইজিং রেডিয়েশনের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের সরাসরি কারণ-সম্পর্কও এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘসময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই ব্রেন টিউমার হবে—এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার পরিমিত রাখা, দীর্ঘসময় একটানা ফোনে না থাকা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

