রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশে খুনের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসভেদে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্বেগ শুধু একটি ঘটনাকে ঘিরে নয়; রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতি মাসে কমবেশি ৩০০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তাঁর ভাষ্য, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা কিছুটা কমলেও খুনের ঘটনা সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। স্থানীয় বিরোধ ও নানা ধরনের অস্থিরতা অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলেও জানান তিনি।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সংঘাত, ক্ষমতার আধিপত্য, মাদক, পারিবারিক বিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। তাঁদের অভিযোগ, অপরাধের ধরন ও মাত্রার তুলনায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২ হাজার ৯৭৪ জন আহত এবং অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মতে, হত্যাকাণ্ড কমাতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

পুলিশ অবশ্য বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরেও হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ফলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার দাবি জোরালো হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন