মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দাম সমন্বয় না হওয়ায় ৬০% অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের উৎপাদন বন্ধ

নিউজ ডেস্ক

দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দাম যথাযথভাবে সমন্বয় না হওয়ায় এসব ওষুধ উৎপাদনে লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ, মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা সংস্কার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাপির নেতারা জানান, মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে কম দামের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে অনেক কোম্পানিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতির সময় ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯টি ওষুধ উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিতই হয়নি। বাকি ৯৮টি ওষুধের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় এসব ওষুধের বড় একটি অংশ উৎপাদন থেকে সরে গেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওষুধ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাজারে এসব ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে রোগীদের তুলনামূলক বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে।

বাপির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ শিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে তাদের আপত্তি নেই, তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা এবং মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম রাখতে হলে একদিকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন