দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষ ফিরে পেলেন সিনিয়র সিভিল জজ (দেওয়ানী) আদালত। বরগুনা জেলা সদর থেকে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত আমতলী উপজেলায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে আদেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমতলী-তালতলীর সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের আশায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আমতলী ও তালতলী নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠনের পর এখানে মুনসেফ (দেওয়ানী) আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে আদালতের কার্যক্রম চললেও ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমতলী আদালত প্রত্যাহার করে বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এতে আমতলী ও তালতলীর লক্ষাধিক বিচারপ্রার্থী দুর্ভোগে পড়েন।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে পায়রা নদী ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম আমতলীতে পুনরায় শুরু হয়। তবে দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম আর আমতলীতে ফেরেনি।
ফলে গত ৩৬ বছর ধরে আমতলী ও তালতলীর বিচারপ্রার্থীদের মামলা-মোকদ্দমার কাজে বরগুনা জেলা সদরে যেতে হয়েছে। অনেককে সাড়ে চার কিলোমিটার প্রমত্ত পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগ উপেক্ষা করে আদালতে যেতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে প্রত্যন্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষকে।
তালতলী মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, বরগুনা জেলা সদরে দেওয়ানী আদালত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমতলী-তালতলীর মানুষের জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। সিনিয়র সিভিল জজ আদালত আমতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের মো. ইসহাক হাওলাদার বলেন, গত ১০ বছর ধরে বরগুনা সহকারী জজ দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা চলছে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনায় আদালতে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত কষ্টকর। দেওয়ানী আদালত আমতলীতে চালু হওয়া আমতলী-তালতলীর মানুষের জন্য আশীর্বাদ।
ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমতলী-তালতলীবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। এখন বিচারপ্রার্থীদের আর পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনায় যেতে হবে না। এতে তাদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—তিনটিই কমবে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আমতলীতে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

