বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি বিভাগে ‘মডেল খাল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ২০টি খালকে মডেল খাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০টি খালের প্রস্তাব পাওয়া গেলেও যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে ২০টি নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত একটি করে খালকে এ প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মডেল খালে শুধু পানি নিষ্কাশন বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে না। খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ, খালে মাছ চাষ এবং হাঁস পালনের মতো কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। পানি সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, চলতি বছর দেশের সব উপজেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে খাল খননের প্রাক্কলন প্রস্তুত করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে খননকাজ শেষ করতে চায় সরকার।
মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খাল খনন করলে কাজের মান নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং বর্ষার আগেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। বর্ষাকালে খননকাজ করলে নানা ধরনের অনিয়ম ও অভিযোগের সুযোগ তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাল পুনঃখননের সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। সেই পানি সেচ কাজে ব্যবহার করলে কৃষকের সুবিধা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।
দুর্যোগমন্ত্রী আরও বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই দেশের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। অপরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি দ্রুত সরতে পারে না। খালগুলো পুনঃখনন করা হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
খাল খনন কর্মসূচিকে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খননকাজে স্থানীয় শ্রমিকদের যুক্ত করা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ওই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে বা নাব্যতা হারিয়েছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে সেগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: বাসস

