রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃ’তের সংখ্যা ৯৫, নিখোঁজ ৪০৩

নিউজ ডেস্ক

নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বত থেকে হঠাৎ বিপুল পানি নেমে এসে ভোতেকুশ নদীর তীরবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়লে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা, ভেসে যায় ঘরবাড়ি ও যানবাহন।

বার্তা সংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, বন্যায় রাসুয়া জেলার পাশাপাশি সায়াফুরবেশি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৈলাশ-মানস সরোবরে যাওয়ার পথে অন্তত ৪০০ পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী ১৪টি হেলিকপ্টার এবং কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে চলছে অভিযান।

ভূমিকম্পের পর বরফ ধস, সেখান থেকেই বিপর্যয়?

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে লেন্দে নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়।

গবেষকের ধারণা, বুধবার সকালে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর জমে থাকা বরফ নড়ে গিয়ে নদীর ওপর তৈরি বাধা ভেঙে যেতে পারে। এরপর বিপুল পানি একসঙ্গে লেন্দে নদী হয়ে ভোতেকুশ নদীতে নেমে আসে। এর ফলেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তারা প্রাথমিকভাবে বরফ ধসের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফ ধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে গিয়েছিল। একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পের ঘটনাও ঘটে।

তবে বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন