আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর দাবি, চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটি, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ চুক্তি থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করেছে।
চলমান বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন। কোনো সরকারের পক্ষেই মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতসহ সব ধরনের পুরোনো সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত সংকট কাটাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করা জরুরি। অস্থিরতা তৈরি হলে এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদ্যুৎ খাতের পুরোনো চুক্তিগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব চুক্তিতে দায়মুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে চুক্তিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

